রোহিঙ্গা নৃশংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সু চির প্রতি অ্যাবের আহ্বান

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে।

সোমবার (২২ অক্টোবর) টোকিওতে সুচির সঙ্গে বৈঠকে, রোহিঙ্গা নৃশংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও সরকারকেও আহ্বান জানান তিনি। এদিকে, রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত করার অপরাধে মিয়ানমারের বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা প্রত্যাখ্যান করেছে নেইপিদো।

জাপানের সম্রাট নারোহিতোর অভিষেক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের পাশাপাশি দেশটিতে সফর করছেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি। সোমবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। এ সময় রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে অং সান সুচির প্রতি আহ্বান জানান শিনজো অ্যাবে। জবাবে রাখাইন সমস্যাকে যথাযথভাবে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান সু চি।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে বলেন, আমরা আশা করি স্বাধীন তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে রাখাইন রাজ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনী।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের দীর্ঘদিন পরও দেশটির গড়িমসিতে এখনো একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরানো সম্ভব হয়নি। নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানান শিনজো অ্যাবে।

রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত করার দায়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে রুল জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। তবে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে নেইপিদো। মিয়ানমার আইসিসির সদস্য নয় উল্লেখ করে সোমবার জাতিসংঘে নিযুক্ত দেশটির প্রতিনিধি ইউ ন্যান লিন অং বলেন, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কোন এখতিয়ার নেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের। আর এ বিষয়টি জাতিসংঘকে অবহিত করেছেন তিনি।

এদিকে, রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরাতে আবারো উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর পারষ্পরিক সহযোগিতামূলক জোট আসিয়ান। সংস্থাটির একটি নথিকে উদ্ধৃত করে থাই গণমাধ্যম ব্যাংকক পোস্ট জানায়, ব্যাংককে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় সম্মেলনে দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দেবেন বিশ্বনেতারা।