৪৩ তম কানাডার জাতীয় নির্বাচন-২০১৯ : জাস্টিন ট্রুডো না অ্যান্ডু শিয়ার ?

লিখেছেন মাহমুদুল হাসান রুবেল

২১ অক্টোবর রাত জানা যাবে কে হবেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী। কানাডার বিভিন্ন সংস্থার জরিপে প্রধান দুই দল জাস্টিন ট্রুডোর লিবারেল পার্টি এবং অ্যান্ডু শিয়ার এর কনজারভেটিভ দলের মধ্যে তুমুল লড়াই হবে। বিশ্লেষকদের ধারণা কোন দলই সংখ্যাগরিষ্টতা পাবে না। তবে কনজারভেটিভদের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পরেও, প্রদেশ ভিত্তিক জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, ভোটার সমৃদ্ধ কুইবেক ও অন্টারিও প্রদেশে এগিয়ে রয়েছেন লিবারেল প্রার্থীরা। হাউজ অব কমন্সের ৩৩৮টি আসনের মধ্যে ১৯৯টি আসন রয়েছে এই দুইটি প্রদেশে। সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেতে একটি রাজনৈতিক দলকে পেতে হবে ১৭০ টি আসন। তবে লিবারেলের জন্য আশার কথা হচ্ছে, সাধারণত কানাডায় সংখ্যাগরিষ্ঠ কোন সরকারকে এক মেয়াদের পরে ক্ষমতা থেকে সরতে হয় না। আসনভিত্তিক জরিপেও লিবারেল পার্টির এখনো সম্ভাবনা আছে এককভাবে ১৭০ টি আসন জয় করার। দলটি সর্বোচ্চ ১৯২ টি আসন পেতে পারে। একই ভাবে কনজারভেটিভ দল সর্বোচ্চ ১৮০ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আজ যদি নির্বাচন হয় তবে জরিপ মতে, লিবারেল পাবে ১৩৭ টি, কনজারভেটিব পার্টি ১৩৫ টি, ব্লক কুইবেকুয়া ৩৩ টি, এনডিপি ২৮ টি, গ্রীন পার্টি ৪টি আসনে জয়ী হবে।
এক্ষেত্রে লিবারেল পার্টিকে ব্লক কুইবেকুয়াকে নিয়ে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করতে হতে পারে। তাই কুইবেকের ব্লক কুইবেকুয়ার কারণে একটু দুশ্চিন্তায় লিবারেল পার্টি। কারণ ব্লক কুইবেকুয়া কুইবেক থেকে ১৭ থেকে ৪৭ টি আসনে জয়ী হবার সম্ভাবনা আছে। কুইবেক থেকে যত বেশি আসন ব্লক কুইবেকুয়া থেকে নিয়ে আসতে পারবে তার উপর অনেকটা নির্ভর করছে লিবারেল পার্টির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার বিষয়টি।

২০১৫ সালের জরিপে বলা হয়েছিল জাস্টিন ট্রুডোর লিবারেল পার্টি জয়ী হবে ১৪১ টি আসনে। যা পরবর্তীতে সত্য হয়নি। তাই ২০১৯ সালের নির্বাচনের ব্যাপারে আগাম কিছু বলা কঠিন। তবে এবারের নির্বাচনে ৩৩৮ টি আসনের মধ্যে ৬০ টি আসন আছে যে কেউ জিততে পারেন। আর এই ৬০ টি আসনই নির্ধারণ করবে শেষ পর্যন্ত কে হবেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী। এনডিপির জগমৎ সিং এর ক্যারিশমাটিক প্রচারণায় এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সফলতার কারণে অন্টারিও এর লিবারেল পার্টির দশটি নিশ্চিত আসনকে হুমকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। তাই জাস্টিন ট্রুডোর সমর্থকদেরকে বাড়তি কাজ করতে হবে লিবারেলের ভোটারদের ভোট যেন মিস না হয়। সেসাথে সুইং ভোটারদের ভোট যত বেশি টানতে পারবে তত প্রকট হবে লিবারেল পার্টির জয়ী হওয়ার। ইলেকশন কানাডার সূত্র মতে, অগ্রীম ভোট গত ২০১৫ নির্বাচনের তুলনায় ২৫% বেশি পড়েছে শুক্রবার এবং শনিবারেই। রবিবার এবং সোমবার বাকি থাকতেই ২ মিলিয়ন ভোট ইতিমধ্যে হয়ে গেছে, গত নির্বাচনে যা ছিলো ১.৬ মিলিয়ন। এ সূত্র থেকেই বোঝা যাচ্ছে, এবারের নির্বাচন ভোটাররা কতটুকু ণ্ডরুত্বপূর্ণ হিসেবে নিয়েছেন।

এ ছাড়া কানাডার বাহিরে বসবাসরত ৪৪ হাজারের উপর ভোটারের কাছে স্পেশাল ব্যালট পেপার ডিএইচএল, ফেডেক্সসহ অন্যান্য ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির মাধ্যমে গন্তব্যে পৌঁছে গেছে এবং ২১ তারিখের মধ্যে তা ফিরতি মেইলে ইলেকশন কানাডাতে ফেরত আসবে। এদিকে লিডার হিসেবে জনপ্রিয়তার দিক থেকে জাস্টিন ট্রুডো এখনো এগিয়ে আছেন। ৩৩.৬% কানাডিয়ান জাস্টিন ট্রুডোকে আবারও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। অ্যান্ড্রু শিয়ারকে ২২.৭%, জগমৎ সিংকে ৭.৪% এবং এলিজাবেথ মেকে ৮.১% কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান।
টরন্টো, মন্ট্রিয়ল এর বাংলাদেশী কমিউনিটির ব্যক্তিবর্গ মূলত লিবারেল পার্টির জয়ের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। সরাসরি প্রচারণা ছাড়াও সোসাল মিডিয়াতে সরব। তবে সবাই একমত হয়েছেন ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে এবং অন্যদেরকে উৎসাহ দিতে হবে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
সবশেষে এই নির্বাচনে ভোট দেয়ার আগে চিন্তা করুন কোন পার্টি ফেডারেল সরকারের দায়িত্বগুলো সবচেয়ে ভালভাবে পালন করতে পারবে। পাশাপাশি এটাও মনে রাখতে হবে কোন পার্টি কি কি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে এবং পূর্বে দেয়া প্রতিশ্রুতির কতটুকু পালন করেছে। কেননা আমাদের দেয়া ভোটের উপর নির্ভর করছে মানবতাবাদী এবং ইমিগ্রেন্টবান্ধব দেশ কানাডার আগামী ৪ বছরের ভাগ্য।