বিসিসিআই’র পরবর্তী সভাপতি হতে যাচ্ছেন সৌরভ

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই’র) পরবর্তী সভাপতি হতে যাচ্ছেন সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙুলি। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর রোববার বোর্ড সভায় সভাপতির মনোনয়নের ইস্যু নাটকীয় মোড় নেয়। শুরুতে ব্রিজেশ প্যাটেল এগিয়ে থাকলেও পরে তাকে পেছনে ফেলে সবচেয়ে প্রভাবশালী ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির দৌড়ে এগিয়ে আছেন ‘প্রিন্স অব কলকাতা।’

ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সিকে খান্নার জায়গায় নতুন সভাপতি ঠিক করতে ক’দিন থেকেই চলছিল তোড়জোড়। শনিবার থেকেই এই পদে কাকে দেখা যাবে তা নিয়ে তৈরি হয় জল্পনা। বর্তমানে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি)-এর সভাপতির দায়িত্বে সৌরভ গাঙুলি বিসিসিআই’র নির্বাচনে সভাপতি হতে আগ্রহী ছিলেন। সেই সঙ্গে আলোচিত হচ্ছিলেন সাবেক আরেক ক্রিকেটার ও সংগঠক ব্রিজেশ প্যাটেলের নামও।

টাইমস অব ইন্ডিয়াএনডিটিভি এবং দ্য ইকোনমিক টাইমস খবর দিয়েছে, রোববারের বোর্ড সভায় সভাপতি পদে মনোনয়নের জন্য সৌরভের নামই চূড়ান্ত হয়েছে। অর্থাৎ নির্বাচনে একক প্রার্থী হিসেবেই মনোনয়ন জমা দিচ্ছেন তিনিই, কারণ সমঝোতা আর নানামুখী লবিংয়ে প্রার্থী হতে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন প্যাটে। ফলে সৌরভের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া এখন কেবল আনুষ্ঠানিকতাই মাত্র। সোমবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে আর কারো মনোনয়ন জমা পড়ার খবর নেই। তা না হলে এই পদে আর নির্বাচনের দরকার হবে না।

জানা গেছে সভাপতি পদে সৌরভ এবং সদস্য সচিব পদে এগিয়ে আছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্টমন্ত্রী অমিত শাহর পুত্র জয় শাহ। সাবেক সভাপতি অনুরাগ ঠাকুরের ছোট ভাই অরুন ধুমাল হতে যাচ্ছেন নতুন কোষাধক্ষ্য।

বিশ্বের সবচেয়ে বিত্তশালী ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির পদে ব্রিজেশও ছিলেন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। তাকে সভাপতি পদে বসাতে লবিং করছিলেন বিসিসিআই’র সাবেক বিতর্কিত সভাপতি এন শ্রীনিবাসন। পিটিআইকে উত্তরপূর্বাঞ্চলের সিনিয়র এক কর্মকর্তার বোর্ড সভার পর বলেন, ‘ব্রিজেশকে সভাপতি বানাতে চেয়েছিলেন শ্রীনিবাসন। তবে বোর্ড সভায় ব্রিজেশের বিপক্ষে কঠোর মত উঠে। আমরা খুবই আনন্দিত যে সৌরভ নতুন সভাপতি হতে চলেছেন।’

৪৭ বছর বয়েসী সৌরভ ভারতের সবচেয়ে সফল অধিনায়কদের একজন। তার অধিনায়কত্বে খেলার ধরন বদলে দাপট দেখাতে শুরু করে ভারতীয় ক্রিকেট দল। অবসরের পর বাঙালি এই ক্রিকেটার সংগঠকের ভূমিকায় আসেন। সিএবি’র সভাপতি হিসেবে এরমধ্যেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। বিসিসিআই’র দায়িত্ব নিলে তিনি হবেন পদটিতে বসা প্রথম কোন বাঙালি। এর আগে দুবার এই পদে দায়িত্ব পালন করেছেন কলকাতার আরেক সন্তান মাড়োয়াড়ি ব্যবসায়ী জগমোহন ডালমিয়া।

২০১৭ সালে আদালতের রায়ের পর সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয় অনুরাগ ঠাকুরকে। এরপর থেকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে আছেন সিকে খান্না।