মুভি রিভিউ : ‘মহালয়া’

লিখেছেন মাহমুদুল হাসান রুবেল

মহালয়া
পরিচালক : সৌমিক সেন
অভিনয় : প্রসেনজিত চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, শুভাশিস মুখোপাধ্যায়, কাঞ্চন মল্লি­ক।

পরিবর্তন স্বাভাবিক। যুগের সাথে অনেক কিছুই বদলে যায়। মানুষ পুরোনোকে ফেলে দিয়ে নতুনের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়। কিন্তু কিছু কিছু পুরোনো রয়ে গেছে ঐতিহ্য হয়ে। ঐতিহ্যের চেয়েও বলা ভালো অস্তিত্ব হয়ে। যা ফেলে দিলে অস্তিত্ব সংকট তৈরি হয়। কিছু সময় আসে যখন মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় তারা পরিবর্তনের সাথে যাবে নাকি ঐতিহ্যের সাথে থাকবে। বাংলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব, শারদীয় দূর্গোৎসবের আগমনী শুরু হয় মহালয়ার মাধ্যমে।

একটা সময় ঘরে ঘরে টিভি ছিল না, ছিলো রেডিও। ছিলো কলকাতার আকাশবানী। আর মহালয়ার ভোরে সেই আকাশবানীতেই চন্ডীপাঠ করতেন বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র। বাঙালির ঘরে ঘরে তিনি পৌঁছে গেছেন তাঁর কণ্ঠ দিয়ে। হয়েছেন রেডিও জগতের সুপারস্টার। সেই বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠকে পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেয়া হয় ১৯৭৬ সালে। এর পক্ষে যেসব আমলারা ছিলেন তাদের যুক্তি ছিল, অনেকতো হলো বীরেন্দ্র কৃষ্ণের কণ্ঠ, এবার নতুন কণ্ঠ আসুক। কিন্তু আকাশবানী এর ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ অনুষ্ঠানটি বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র ছাড়া বাঙালি কল্পনাই করতে পারে না। আর পারবেই বা কীভাবে ? সেই ১৯৩১ সাল থেকে চলছে। প্রথমে সরাসরি সম্প্রচার করা হতো স্টুডিও থেকে। পরবর্তীতে রেকর্ড করা অনুষ্ঠান প্রতি বছর পুনঃপ্রচার করা হতো। ভারতের রেডিও ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে চলা রেডিও অনুষ্ঠান এটি, যার সময় মাত্র দেড় ঘণ্টা। এই আয়োজনের মূল দুই প্রাণ বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র এবং পঙ্কজ মল্লি­ক। বীরেন্দ্রকৃষ্ণের কণ্ঠে চন্ডীপাঠ, আর পঙ্কজ মল্লিকের সঙ্গীতায়োজনে শিল্পীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠানটি বাঙালির হৃদয়ে পূজার আগমনী বার্তা নিয়ে আসে। ১৯৭৬ সালে ভারতজুড়ে চলছে জরুরি অবস্থা। অল ইন্ডিয়া রেডিও থেকে ঠিক করা হলো চন্ডীপাঠের আয়োজন একদম নতুন করে করতে হবে, নতুন কণ্ঠ, নতুন শিল্পী, নতুন কম্পোজার, সব নতুন। সে অনুযায়ী শুরু হলো কাজ। কম্পোজিশনের দায়িত্ব পেলেন হেমন্ত মুখার্জি। কিন্তু বীরেন্দ্রকৃষ্ণের জায়গা কে নেবে ? ঠিক হলো মহানায়ক উত্তম কুমার চন্ডীপাঠ করবেন। ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ থেকে বদলে অনুষ্ঠানের নাম রাখা হলো ‘দুর্গা দুর্গতিহারিনী’। চারদিকে খবর ছড়িয়ে পড়লো, রিহার্সাল শেষে অনুষ্ঠান রেকর্ড হলো। ১৯৭৬ সালের মহালয়ায় চন্ডীপাঠ করলেন উত্তম কুমার। ফলাফলটা কি হলো ? মেনে নিলো শ্রোতারা নাকি নতুনকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে সেই পুরোনোকেই আঁকড়ে ধরে রইলো ? এই ঘটনাবলীর উপজীব্য করেই তৈরি হয়েছে ‘মহালয়া’ চলচ্চিত্রটি ।

v