মন্ট্রিয়লের জলবায়ু সমাবেশে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু গ্রেটা

জলবায়ু পরিবর্তন রোধে রাজনৈতিক নেতাদের কার্যকর ভূমিকা নিতে বাধ্য করতে কানাডার মন্ট্রিলে প্রায় ৫ লাখ মানুষের এক সমাবেশে নেতৃত্ব দিয়েছেন গ্রেটা থানবার্গ। জলবায়ু আন্দোলনের প্রতীকে রূপান্তরিত হওয়া ১৬ বছর বয়সী এই শিশুকে ঘিরে মন্ট্রিল শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হয় প্রবল আগ্রহ। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে সমাবেশের মধ্যে সুইডিশ এই শিশুকে দেখতে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন কেউ কেউ।.

জলবায়ু পরিবর্তন রোধে ভূমিকার দাবিতে ২০১৮ সালে সুইডেনের পার্লামেন্টের বাইরে অবস্থান নেওয়া শুরু করেন স্কুল শিক্ষার্থী গ্রেটা থানবার্গ। তার এই অবস্থানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিশ্বজুড়ে বেগবান হয় জলবায়ু আন্দোলন। গত সপ্তাহে তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিশ্বজুড়ে এই আন্দোলনে শামিল হয় লাখ লাখ মানুষ।

শুক্রবার কানাডার মন্ট্রিলে এক সমাবেশে যোগ দেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোসহ প্রায় ৫ লাখ মানুষ। কানাডার নির্বাচনি প্রচারণার মধ্যে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে গ্রেটা থানবার্গকে দেখতে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ১৩ বছর বয়সী আন্নাবেল ভ্যালেন্দ। এএফপিকে তিনি বলেন, আমি সত্যিকারভাবে গ্রেটার আন্দোলনে সমর্থন করি। সে অসাধারণ কাজ করছে আর একটি নির্বাচনের মধ্যেও সে রাজনীতিবিদদের জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কাজ করতে বাধ্য করতে পারার অসাধারন কাজ করেছে।

মন্ট্রিলের সমাবেশ উপলক্ষে বন্ধ রাখা হয় সেখানকার বহু স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়। সবচেয়ে বড় প্রাদেশিক স্কুল বোর্ড দ্য কমিশন স্কলাইরে দ্য মন্ট্রিল সেখানকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সব ক্লাস বাতিল করে। ১৬ বছর বয়সী তাইসা ক্লোয়ে থিওডোর বলেন, একদিন স্কুল বাদ দিয়ে হলেও এই সমাবেশে থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এটা এখনও আমাদের ভবিষ্যত। যদি জলবায়ু পরিবর্তন হয় তাহলে আমাদের শিশুরা নিশ্চিতভাবে একটি নষ্ট বিশ্বে বসবাস করবে।

সমাবেশে যোগ দেওয়া অপর এক নারী বলেন, সে (গ্রেটা) এক উদ্দিপনা। আমাদের রক্ষায়, রাজপথে হাঁটার সাহস যোগাতে এবং পৃথিবীর স্বাস্থ্যের জন্য ভূমিকা রাখার অংশ করতে সে স্কুল ছেড়েছে।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার জাতিসংঘের এক জলবায়ু সম্মেলনে ‘আপনাদের সাহস কত?’ শীর্ষক এক ভাষণ দিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে সংবাদ শিরোনামে উঠে আসেন গ্রেটা থানবার্গ। ওই ভাষণে তার প্রজন্মের সঙ্গে বিশ্বনেতারা বিশ্বাসঘাতকতা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।